অ-প্রাপ্তবয়স্কদের মদ্যপান



এটা যেকোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। আপনি কোন পার্টিতে গেলেন, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা হল, হাসি-ঠাট্টা আর তারপরে ফুর্তির হুল্লোড়। এরপর ঘরে ফেরার পালা। আপনি টলমল পায়ে গাড়িতে উঠে স্টিয়ারিং-এ বসলেন। আপনি নিজেকে বলছেন, আপনি মোটেই মাতাল হননি, একটু খুশিয়ালভাবে হাই হয়েছেন আর কি! যতই হোক, কয়েকটা ড্রিঙ্ক তো নিয়েছেন। আপনাকে

কম বয়সীরা কেন মদ্যপান করে?

স্বীকৃত গবেষণা বলছে, কম বয়সীরা যে শুধুমাত্র বড়দের আচার আচরণ চিহ্নিত বা নকল করার জন্যই মদ্যপান করে তা নয়| তাদের মদ্যপানের বিভিন্ন রকম কারণ রয়েছে এবং সামাজিক বিন্যাসের ক্ষেত্রে অ্যালকোহল ব্যবহারিক থেকে প্রতীকী পর্যন্ত নানা ভুমিকা নিয়ে থাকে|

পিতামাতা হিসেবে এটা বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে কেন ছেলেমেয়েরা অ্যালকোহল পান করতে পারে, যাতে আপনার সন্তানকে আপনি সঠিক পথ দেখাতে প্রভাবিত করতে পারেন|

প্রথমবার পানের সময় বিরক্তিকর বা অপ্রীতিকর মনে হওয়া সত্ত্বেও ছেলেমেয়েরা অ্যালকোহলে আকৃষ্ট হতে পারে| এর স্বাদ তাদের ভালো নাও লাগতে পারে অথবা মদ্যপানের অনুভুতিটাও তাদের অপছন্দের হতে পারে, তার পরও তারা সাধারণত এতে লেগে থাকে| কম বয়সে মদ্যপানের ঝুঁকি সম্পর্কে তাদের জানা গুরুত্বপুর্ণ| কিন্তু তারা আপনার কথা শুনবে না বা আপনাকে বিশ্বাস করবে করবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না আপনি অ্যালকোহলের অন্য দিকটা এবং মানুষ কেন মদ্যপান করে, তা আপনি তাদের বলবেন|

ঝুঁকি গ্রহণ—গবেষণায় দেখা গেছে কুড়ি বছর বয়সের আগে মস্তিষ্কের বিকাশ খুব ভালভাবে হতে থাকে| এই সময়ের মধ্যেই তা গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সাধন করে থাকে এবং এর পর থেকে সেই ক্রিয়াকে পরিমার্জন করে থাকে| বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই দীর্ঘ সময়ের বিকাশ কম বয়সীদের ব্যবহারের ব্যাখ্যায় সহায়ক হয়ে থাকে—যেমন নতুন ও সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতির সন্ধানের প্রবৃত্তি| কিছু ছেলেমেয়ের ক্ষেত্রে রোমাঞ্চের সন্ধান করা অ্যালকোহলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে| বিকাশের পরিবর্তন থেকে কেন কমবয়সীরা এত ঝোঁকের মাথায় কাজ করে—যেমন না বুঝে মদ্যপানের মত কাজ ইত্যাদি, যার পরিনতি ভালো হয় না—তার সম্ভাব্য শারীরবৃত্তীয় ব্যাখ্যা পাওয়া যেতে পারে|

প্রত্যাশা —মানুষ অ্যালকোহলকে কিভাবে দেখছে এর প্রভাবও তাদের মদ্যপানের ব্যবহারকে, অর্থাৎ মদ্যপান শুরু করা অথবা কতটুকু পান করা, তাকে প্রভাবিত করে| একজন কম বয়সী, যে মদ্যপানকে আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা হিসেবে প্রত্যাশা করবে না, তার তুলনায় যে প্রত্যাশা করবে তার ক্ষেত্রে মদ্যপানের সম্ভাবনা বেশি| অ্যালকোহলের গবেষনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, কিভাবে শিশু বয়স থেকে বয়ঃসন্ধি কাল এবং প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া পর্যন্ত একজন মানুষের ওপর মদ্যপানের প্রত্যাশার প্রভাব পরে| অ্যালকোহল সম্পর্কে বিশ্বাস অনেক ক্ষেত্রেই জীবনের খুব শুরু থেকেই, এমনকি ছেলেমেয়েরা যখন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যায়, তার আগে থেকেই শুরু হয়|

অ্যালকোহলে সংবেদনশীলতা ও সহনশীলতা — একজন প্রাপ্তবয়স্কের মস্তিস্ক আর একজন বয়ঃসন্ধিকালের মানুষের মস্তিস্কের পার্থক্য থেকেও এটা ব্যাখ্যা করায় সহায়তা হবে যে, কোনো কমবয়সী ছেলেমেয়ে একজন বয়স্ক মানুষ থেকে, মদ্যপানের নেতিবাচক পরিনাম যেমন ঝিমুনি, সংযোগের অভাব, বমি, হ্যাংওভার ইত্যাদি বোঝার আগেই কেন অনেক বেশি পরিমানে মদ্যপান করতে সক্ষম| কম বয়সীদের মধ্যে পানোৎসবে মদ্যপানের সংখ্যাধিক্যের কারণ এই অস্বাভাবিক সহনশীলতা থেকেও ব্যখ্যা করা যেতে পারে| একই সঙ্গে, কম বয়সীরা মদ্যপানের কিছু ইতিবাচক প্রভাব যেমন সামাজিক পরিবেশে স্বচ্ছন্দ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি নিয়ে খুব বেশি সচেতন থাকে এবং এই প্রভাব থেকেও অনেক সময় কম বয়সীরা প্রাপ্ত বয়স্কের থেকে বেশি মদ্যপান করে থাকতে পারে|

ব্যক্তিত্ব বৈশিষ্ট্য ও সাইকিয়াট্রিক কো-মরবিডিটি —যেসব ছেলেমেয়েরা খুবই ছোট বয়সে মদ্যপান শুরু করে তারা সাধারণত একই রকম ব্যক্তিত্বযুক্ত বৈশিষ্ট্যের থাকে, যা তাদেরকে খুব সহজেই মদ্যপান শুরু করাতে সহায়তা করে| যেসব কম বয়সীরা ঐক্য-নাশক, অতিসক্রিয় ও আক্রমানত্মক হয়ে থাকে—যাদেরকে সাধারণত সমস্যা সৃষ্টিকারী অথবা অসামাজিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে—তাদের পাশাপাশি যারা বিষন্ন, উদ্বিগ্ন অথবা যাদেরকে দুরে সরিয়ে রাখা হয়, তাদের মধ্যে অ্যালকোহলের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়| অ্যালকোহল পানের সঙ্গে অন্যান্য ব্যবহারগত সমস্যার মধ্যে রয়েছে—বিদ্রোহী হওয়া, ক্ষতি অথবা ক্ষতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর সমস্যা ইত্যাদি অন্যান্য সমস্যা দেখা যায়, যেখানে কম বয়সীরা কোনো নিয়মের মধ্যে থাকে না অথবা অন্যের অনুভুতির তোয়াক্কা করে না|
(চিকিৎসাশাস্ত্রে কো-মরবিডিটি হচ্ছে কোনো প্রাথমিক অসুখ অথবা সমস্যার সঙ্গে এক বা একাধিক অসুখ বা সমস্যার অবস্থান; অথবা সেইসব অতিরিক্ত অসুখ বা সমস্যার প্রভাব| অতিরিক্ত সমস্যা ব্যবহারিক বা মানসিকও হতে পারে|)

বংশগত কারণ —অ্যালকোহলের সমস্যার ঝুঁকি কমা বা বাড়াতে কিছু ব্যবহারগত ও শারীরিক বিষয় কাজ করে, যেমন অ্যালকোহলের প্রভাবের সহনসীমা ইত্যাদি, এগুলোর সঙ্গে সরাসরি বংশগতিরও সংযোগ থাকতে পারে| উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, কোনো মদ্যপায়ীর সন্তান অথবা যে পরিবারে একাধিক মদ্যপায়ী রয়েছেন, সেই পরিবারের সদস্য অ্যালকোহলিক হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি| যে পরিবারে কোনো মদ্যপায়ী নেই, সেই পরিবারের ছেলেমেয়ের তুলনায় কোনো মদ্যপায়ীর সন্তানের (চিলড্রেন অফ অ্যালকোহলিক বা সি.ও.এ.) মদ্যপানের সম্ভাবনা ৪ থেকে ১০ গুন বেশি| সি.ও.এ.-দের সন্তানের অনেক কম বয়সে মদ্যপান শুরু করা এবং মদ্যপানের সমস্যায় পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি|

Please select the social network you want to share this page with:

We like you too :)

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Donec tincidunt dapibus dui, necimas condimentum ante auctor vitae. Praesent id magna eget libero consequat mollis.

SIMILAR POSTS
No comments yet

Enter the Discussion and post your Comment